বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

রবীন্দ্রসংগীতে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার

রবীন্দ্রসংগীতে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার 

 বীণা 

বাজিল কাহার বীণা মধুর স্বরে

আমার নিভৃত নব জীবন-'পরে 

বাজে বাজে রম্যবীণা বাজে-অমলকমল-মাঝে, জ্যোৎস্নারজনী-মাঝে

অশ্রুনদীর সুদূর পারে পারের হাওয়ায় গান বাজে কোন্ বীণার তারে

আঁধার রাতে একলা পাগল যায় কেঁদে
আজ মরণ-বীণার অজানা সুর নেবে সেধে

আমারে করো তোমার বীণা, লহো গো লহো তুলে ।
উঠিবে বাজি তন্ত্রীরাজি মোহন অঙ্গুলে


আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাওআমার পরান-বীণায় ঘুমিয়ে আছে অমৃতগান-
মোর বীণা উঠে কোন্ সুরে বাজি কোন্ নব চঞ্চল ছন্দে

বাজে করুণ সুরে হায় দূরে
তব চরণতলচুম্বিত পন্থবীণা ।

মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে
নীরব রেখো না তোমার বীণার বাণী-

তোমার বীণা আমার মনমাঝে
কখনো শুনি, কখনো ভুলি, কখনো শুনি না যে

অনেক দিনের শূন্যতা মোর ভরতে হবে-
মৌনবীণার তন্ত্র আমার জাগাও সুধরবে 

অরূপবীণা রূপের আড়ালে লুকিয়ে বাজে,
সে বীণা আজি উঠিল বাজি হৃদয়মাঝে

 বাঁশি
আনন্দগান উঠুক তবে বাজি
এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে

আজি দখিন-দুয়ার খোলা -এসো বাজায়ে ব্যাকুল বেণু মেখে পিয়ালফুলের রেণু

আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা আজ বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা
কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে
পরানে বাজে বাঁশি, নয়নে বহে ধারা
আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে,

এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায় ।

মায়াবন বিহারিনী হরিণী
থাক্ থাক্ নিজ-মনে দূরেতে,
আমি শুধু বাঁশরির সুরে তে

মন যে বলে চিনি চিনি
যে গন্ধ বয় এই সমীরে
এই সুদূরে পরবাসে
ওর বাঁশি আজ প্রাণে আসে

আপনারে দিয়ে রচিলি রে কি এ আপনারই আবরণ
শূন্য করিয়া রাখ্‌ তোর বাঁশি,
বাজাবার যিনি বাজাবেন আসি
আজি যত তারা তব আকাশে 
নিখিল নিশ্বাস আজি এ বক্ষে বাঁশরির সুরে বিলাসে 

আমার অঙ্গে অঙ্গে কে বাজায় বাঁশি ।
আনন্দে বিষাদে মন উদাসী

আমার যে দিন ভেসে গেছে চোখের জলে
দুই তারে জীবনের বাঁধা ছিল বীণ

আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি
যখন বাজিয়ে বীণা বনের পথে বেড়াই সঞ্চরি ।

আয় তবে সহচরী, হাতে হাতে ধরি ধরি
আন্‌ তবে বীণা- সপ্তম সুরে বাঁধ্‌ তবে তান

আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে
বাঁশরি বাজাই ললিত-বসন্তে, সুদূর দিগন্তে

আমার বেলা যে যায় সাঁঝ-বেলাতে
এ তার বাঁধা কাছের সুরে, ঐ বাঁশি যে বাজে দূরে

আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তবকত-যে গিরি কত-যে নদী-তীরে
বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে

আমার হৃদয় তোমার আপন হাতের দোলে দোলাও
বাঁশির ডাকে সকল বাঁধন খোলাও

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটিরাখাল ছেলের সঙ্গে ধেনু চরাব আজ বাজিয়ে বেণু

কার বাঁশি নিশিভোরে বাজিল মোর প্রাণে ।

ফুটে দিগন্তে অরুণকিরণকলিকা
আমার নয়ন তব নয়নের নিবিড় ছায়ায়
বাঁশি কি আশায় ভাষা দেয় আকাশেতে
সে কি কেহ নাহি বোঝে

সেতার
তুমি কোন্‌ ভাঙনের পথে এলে সুপ্তরাতেতুমি কোলে নিয়েছিলে সেতার, মীড় দিলে নিষ্ঠুর করে
আমার প্রাণের মাঝে সুধা আছে, চাও কি
আমি সেতারেতে তার বাধেঁছি, আমি সুরলোকের সুর সেধেছি
মৃদঙ্গ


মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে
তারি সঙ্গে কি মৃদঙ্গে সদা বাজে